বিএমআই তফাত যাও

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Ut elit tellus, luctus nec ullamcorper mattis, pulvinar dapibus leo.

‘আমার বিএমআই স্বাভাবিক, আমি একেবারেই মোটা নই’, অধিকাংশ ভারতীয়রা এভাবেই ভাবেন। এক্সারসাইজ করার কথা বললেই, বডি মাস ইনডেক্সের হিসেব দেখিয়ে দেন। স্বাভাবিক বিএমআই দেখলে সবাই কেমন যেন  নিশ্চিন্ত হয়ে যান। কিন্তু যদি বলি আপনার ওজন বেশি না কম বোঝার সঠিক মাপকাঠি বিএমআই নয়, তা হলে?

বডি মাস ইনডেক্সের হিসেবটা খুব সহজ। ব্যক্তির উচ্চতা ও ওজনের উপর ভিত্তি করে বলে দেওয়া যায় তাঁর বিএমআই কত। বিএমআই বেশি হওয়া মানে আপনার হার্টের সমস্যা ও ডায়াবিটিস মেলিটাস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সারা বিশ্বে ১৮-২৫ বিএমআই ভ্যালুকে আদর্শ ওজনের মাপকাঠি বলে মনে করা হয়। আর এর চেয়ে নীচে বা উপরে হলে মনে করা হয়ে আপনার ওজন ঠিক নয়। হয় আপনার ওজন কম নয় আপনি ওভারওয়েট বা ওবিস।

কিন্তু সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণা করে দেখা গেছে যে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে বিএমআই আদর্শ ওজন ও শারীরিক সুস্থতার মাপকাঠি নাও হতে পারে। দ্য নেদারল্যান্ডস-এর ওয়াগিনিনজেন ইউনিভার্সিটির এক পরীক্ষা অনুযায়ী দেখা গেথে কম বিএমআই ইনডেক্স হওয়া সত্ত্বেরও ভারতীয়দের বডি ফ্যাট পারসেন্টেজ (%BF)বেশি। অন্যান্য জাতিদের ক্ষেত্রে কিন্তু এমনটা ঘটেনি। ফলে মনে করা হচ্ছে বিএমআই আর %BF-এর সম্পর্কে অনেকটাই জাতির উপর নির্ভর করে।

নিউ দিল্লির AIIMS-এর ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিনের পক্ষ থেকে গবেষণা করে দেখা গেছে যে উত্তর ভারতে বসবাসকারী এশীয় ভারতীয়দের ক্ষেত্রে বিএমআই অতিরিক্ত ওজন নির্ধারণ করতে পারে না। বিভিন্ন জাতির মানুষদের বডি ফ্যাট মাপার পরই গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

আমেরকিান ডায়াবিটিস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে এশিয়ায় বসবাসকারী, বিশেষ করে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে ২৫ নয়, ২৩ বিএমআই বিপদের লক্ষণ। এমনকী বিএমআই কম থাকলেও ভারতীয়দের ডায়াবিটিস হতে পারে। অন্য জাতির ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য নয়।

গবেষকদের মতে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে সুস্থতার মাপকাঠি রিলেটিভ ফ্যাট মাস (আর এফএম)। মনে করা হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি বিএমআই-এর পরিবর্তে এই আএমএম-কে বডি ফ্যাটের বিশ্বস্ত নির্দেশক হবে।

এছাড়াও বিএমআই-এর কিছু অসুবিধে আছে। মহিলাদের বডি ফ্যাট পারসেন্টেজ যে পুরুষদের চেয়ে বেশি, তা কিন্তু বিএমআই বলতে পারে না। একজন পুরুষ ও নারীর উচ্চতা আর ওজন যদি এক হয়, তা হলে এই বিএমআই বেরবে। হাড়ের ওজনও, বয়সও বিএমআই তার হিসেবের আওতায় পড়ে না। সুতরাং নিশ্চিন্তে বলা যেতেই পারে যে আর বিএমআই নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনও প্রয়োজন নেই। বরং বডি ফ্যাটের উপর নজর দিতে হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *