কেতজেল পাখি (পর্ব ১০)

Bengali Novel

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Ut elit tellus, luctus nec ullamcorper mattis, pulvinar dapibus leo.

ফারাক বলতে শুধু মাড়ির বদলে গোটা শরীর। অসাড়, অবশ। দাঁতে দাঁতে খটখটানিটা চেপে পরপর কয়েকটা ডুব। মাথার ওপর শীতকালের মিঠে নরম সূর্য। ডুব দিয়ে উঠেই অদ্ভুত এক স্নিগ্ধ কবোষ্ণ অনুভূতিতে ভরে গেল গোটা শরীর মন। সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়লো জঙ্গলে ঢোকার পর থেকে এই প্রথম স্নান করছে ও। লম্বা হাতের স্ট্রোকে এগিয়ে আসছে আবিনাশ। সাপের মতো পেশিগুলো খেলে যাচ্ছে শরীরে। বহুদিন আগে স্কুল থেকে বিড়লা আকাদেমিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রদ্যাঁর প্রদর্শনী দেখতে। অবিনাশকে দেখতে দেখতে হুবহু সেই ভাস্কর্যগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল অভিরূপের। জল দাপিয়ে পাড়ে উঠে এলো ছফুটের শরীরটা। “চলুন কমরেড, দুপুরের খাওয়ার সময় হয়ে গ্যাছে।”

লাঞ্চ টাইম। ‘নিউজ র‍্যাঞ্চ’-এর অফিসের বাইরে ছোট কাফেটেরিয়া। উল্টোদিকে বসা অর্জুন পিল্লাই। “একটু আগে ব্রিজেশ ফোন করেছিল রাঁচি থেকে। পুলিশের কাছ থেকে ইনফর্মেশন এসেছে, অভি শেষ মেসেজটা পাঠিয়েছে একটা ডেন্সলি পপুলেটেড এরিয়া থেকে। উইকলি একটা বড়সড় হাট বসে ওখানে ওইদিন। অথচ পুলিশ আর ব্রিজেশের দুপক্ষের কথা অনুযায়ী অনেক আগেই অভির জঙ্গলে, আই মিন ওদের কোর এরিয়ায় ঢুকে যাওয়ার কথা। তা না করে ওরকম একটা এলাকায়, লোকজনের ভিড়ে কি করছিল ও?” কপালে চিন্তার ভাঁজ। লাইটার জ্বেলে সিগারেট ধরালেন দিব্যেন্দু।

“আমারও ব্যাপারটা কীরকম ফিশি লাগছে দিব্যেন্দুদা। অভি প্রচণ্ড ঠাণ্ডা মাথার ছেলে। হুটহাট কোন স্পোরডিক ডিসিশন নেওয়ার বান্দা ও নয়। সেক্ষেত্রে …।”

“একজ্যাক্টলি সো!” অর্জুনের কথাটা লুফে নিলেন দিব্যেন্দু। “তাহলে ছেলেটা গেল কোথায়? … কোয়ায়েট স্ট্রেঞ্জ! এনিওয়ে, আপাততঃ অভির বান্ধবী ওই মেয়েটা, শ্রীরাধা …।”

“শ্রীতমা দিব্যেন্দুদা।” ভুলটা শুধরে দিলো অর্জুন।

“ওই হলো। তুমি আর কথায় কথায় ফুট কেটো না তো … তো ওই শ্রীতমা আর অভির মাকে আপাততঃ এসব কিছু জানানোর দরকার নেই। অযথা টেনশন করবে। চলো ওঠা যাক এবার।” সিগারেটটা ছাইদানিতে গুঁজে উঠে দাঁড়ালেন দিব্যেন্দু।

হাঁ করে তাকিয়েছিলো অভিরূপ। চোখদুটো ঠিকরে বেরিয়ে আসছিলো বিস্ময়ে! একি কোন ময়দানবের কারসাজি? সকালের সেই ফাঁকা মাঠটা আর নেই। তার বদলে সারি সারি তাঁবু। মাঠের এককোণে গর্ত খুঁড়ে দুটো বিশাল উনুন বানানো হয়েছে। গণগণে আঁচে বসানো দুটো পেল্লায় সাইজের কড়াই আর গামলা। পাশে দুটো বড় বড় ড্রাম। গামলা থেকে ফুটন্ত জল এনে বালতিতে করে ঢালা হচ্ছে ড্রামে। তাঁবুর ভিতরে বাইরে বেছানো সারি সারি প্লাস্টিক শিট। ইতস্ততঃ ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুয়ে বসে থাকা জলপাই উর্দিধারী গেরিলা স্কোয়াডের ছেলেমেয়েরা। আধশোয়া হয়ে বই পড়ছে কেউ কেউ। মেয়েরা স্নান সেরে এসে চুল আঁচড়াচ্ছে, বাঁধছে। সামনে রাখা ছোট আয়না। এদিক ওদিক দুতিনটে টানজিসটার রেডিও। গান বা খবর শুনছে অনেকে। পাশে শুইয়ে রাখা বন্দুক। হরেক রকম। সেল্ফ লোডিং রাইফেল, লাইট মেশিন গান, কারবাইন, মাস্কেট, গাদাবন্দুক, একনলা, দোনলা …। আরেকটা বড় তাঁবুর মধ্যে লম্বা একটা টেবিলে রাখা চারটে কম্পিউটার। মনিটরের স্ক্রিনে চোখ রাখা লোকজন। ‘ভুট ভুট’ শব্দে জেনারেটার চলছে তাঁবুর পিছনে। শেষ তাঁবুটার এককোণে শুইয়ে রাখা দুটো বাজুকা অর্থাৎ রকেট লঞ্চার। তারমানে আকাশপথে নেমে আসা আক্রমণকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রয়েছে এদের। এতো পুরোদস্তুর একটা সৈন্যবাহিনী। অনেক শুনেছে এদের সম্পর্কে, অথবা পড়েছে বিভিন্ন বই আর পত্রপত্রিকায়। তা বলে অ্যাতোটা কল্পনায় আসেনি কখনই। বিস্ময়ের মাত্রাটা লাফ দিয়ে দিয়ে বাড়ছিলো অভিরূপের।

ঠিক এইসময় রান্নার জায়গা থেকে একটা চিৎকার – “খানা তৈয়ার!” শোনামাত্র নিজেদের কলাই করা থালা আর গ্লাস তুলে নিয়ে সেদিকে এগিয়ে গেল সবাই। হৈ হল্লা, ঝগড়া, ধাক্কাধাক্কি নেই অ্যাতোটুকু। শান্ত, সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লো সবাই। হুবহু একটা সুশৃঙ্খল সৈন্যদলের মতো। অভিরূপের হাতে থালা আর মগ ধরিয়ে দিয়ে গেল একটা মেয়ে। “শুক্রিয়া, কমরেড।” প্রত্যুত্তরে মিষ্টি হেসে চলে গেল মেয়েটা। এগিয়ে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লো অভিরূপ। বিশাল বিশাল দুটো ডেকচির সামনে দাঁড়ানো দুজন। বড় হাতায় করে থালায় থালায় ঢেলে দিচ্ছে দালিয়ার খিচুড়ি। খিচুড়ির মধ্যে প্রচুর পরিমানে আলু, গাজর আর সয়াবিন। অভিরূপের পাশেই দাঁড়ানো অবিনাশ। এক চোখে মুচকি হাসল ওর দিকে চেয়ে। “খেতে কষ্ট হচ্ছে, তাই না কমরেড? শহুরে মানুষ আপনারা …।” বলতে বলতেই আঙুল দেখালো পাশে রাখা অপেক্ষাকৃত অনেক ছোট একটা মাটির পাত্রের দিকে “আপনি বরং এইটা একটু চেখে দেখতে পারেন। এক ধরনের লাল পিঁপড়ে, এখানকার ভাষায় ‘লাসসা চুট্টি’ তার ডিম। আদিবাসীদের প্রিয় খাবার। মুখের টেস্ট পালটাবে।” অবিনাশের কথায় পাশে ছোট ছোট করে কেটে রাখা শালপাতায় সামান্য একটু তুলে নিলো চামচে করে। দ্বিধাভরে সামান্য একটু ছোঁয়ালো জিভে। সাদা থকথকে ভাত মাখার মত দেখতে বস্তুটা। না; খেতে মন্দ নয়। একটু ঝাঁঝালো আর টকটক। জিভে স্বাদটা অনুভব করতে করতে লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এলো অভিরূপ। পিছনে পিছনে অবিনাশ। কথা বলতে বলতে – “আসলে আমরা প্রায় রোজই এ ধরনের খাবার খাই। স্বাদ, তেল, ঝাল মশলা নামমাত্র। তবে স্বাস্থ্যকর। আর একটা ব্যাপারে প্রচণ্ড নজর দিই আমরা … মেয়েদের খাওয়াদাওয়া। এই গোটা অঞ্চলে আদিবাসী মেয়েরা চরম ম্যালিনিউট্রিশন, অ্যানিমিয়া আর ক্যালসিয়ামের অভাবে ভোগে। আপনাদের শহরের তুলনায় অনেকগুন বেশি। তাই আমাদের স্কোয়াডগুলোয় সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারে সবার আগে মেয়েদের অধিকার।”

“সেটা কীরকম?” কথার মাঝখানে প্রশ্ন করলো অভিরূপ।

“যেমন ধরুন ডিম, সয়াবিন, দুধ, মাছ, মাংস … এ ধরনের খাবারগুলো কোনদিন র‍্যাশনে কম পড়লে সবার আগে মেয়েরা পাবে। ওদের দিয়ে বাঁচলে তবে ছেলেরা। তবে চিন্তা করবেন না। আজ রাতে গ্র্যান্ড পিকনিক। একটা ইয়াব্বড় দাঁতাল শুয়োর মেরেছে আমাদের আদিবাসী কমরেডরা। গাঁ শুদ্ধু সবার ভোজ আজ রাতে। শুয়োরে আপত্তি নেই তো?” অভিরূপের দিকে তাকালো অবিনাশ।

“কিছুমাত্র না।” হেসে উত্তর দিলো অভিরূপ।

ব্যস, তাহলে তো কথাই নেই।” চিকচিকে হাসি একচোখের কোনে। “চলুন ওখনটায় গিয়ে বসা যাক।” সামান্য দুরে একটা কেন্দুগাছের দিকে আঙুল দেখালো অবিনাশ।

কথা হচ্ছিল খেতে খেতে। খাওয়ার মাঝখানেই হাত নেড়ে একজনকে ডাকলো অবিনাশ – “কমরেড শশী।” ঝকঝকে চেহারার এক যুবক। বছর পঁয়ত্রিশেক বয়স। একমুখ উজ্জ্বল হাসি নিয়ে এসে দাঁড়ালেন সামনে – “লাল সালাম কমরেড অবিনাশ।”

“ইনি আমাদের পার্টির মেডিক্যাল টিমের মেম্বার। ডক্টর শশী। গ্রামে গ্রামে ঘুরে মেডিক্যাল ক্যাম্প চালান। আপনি ওনার সঙ্গে কথা বলুন। দুর্দান্ত ইংরিজী বলেন … আপনার কথা বলতে অসুবিধে হবে না। অনেক বেশি মন খুলে আলাপ করতে পারবেন। আমার ইংলিশ বিদ্যে বলতে তো সেই ছোটবেলায় স্কুলে ক্লাস সেভেনের ইংলিশ টীচার নলিনীবাবু। ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে বলতেন – “আই শ্যাল গো।” আমরা গলা ছেড়ে চেঁচাতাম “আমি গাইবো।” … সে যাকগে, আপনারা কথাবার্তা বলুন, আমি যাই ওদিকটার একটু দেখভাল করে আসি। আর হ্যাঁ, আজ বিকেলে আমাদের ফিজিক্যাল ট্রেনিং ক্লাস। রোজই হয়। ইচ্ছে করলে উপস্থিত থাকতে পারেন। ট্রেনিং শেষ হলে সন্ধের পর না হয় কথা বলা যাবে। আসি তাহলে।” লম্বা লম্বা পা ফেলে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেল অবিনাশ।

হাঁ করে শশীর মুখের দিকে তাকিয়েছিলো অভিরূপ। একী কোন রূপকথা শুনছে? নাকি কোন অলীক জগতের গল্প? যা বাস্তবে এগজিস্ট করে না।

শশী, শশী নায়ার। হায়দরাবাদে উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। বাবা নামী চিকিৎসক। হার্ট স্পেশালিষ্ট। মা রাষ্ট্রনীতির অধ্যাপিকা। শশী নিজেও ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজের কৃতী ছাত্র। স্ত্রী নির্মলাও তাই। শশীর ওপরে দুই দাদা। একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট, অপরজন সফটওয়্যার এঞ্জিনিয়ার। দুর্দান্ত সফল শিক্ষা এবং পেশাগত জীবনে। কর্মসূত্রে দুজনেই বিদেশে। এদিকে শশীরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই অনেকদিন ধরে যুক্ত পার্টির সঙ্গে। দলের সক্রিয় সদস্য। এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা করে বেড়ায় গ্রামে গ্রামে। শশী ঝাড়খণ্ডে। স্ত্রী নির্মলা ছত্তিশগড়ে। সারাবছরে প্রায় দেখাই হয় না বলতে গেলে।

স্তব্ধ করে দেওয়া বিস্ময়টাকে গিলতে বেশ কিছুক্ষণ সময় নিলো অভিরূপ। তারপর অদ্ভুত এক অসহিষ্ণু গলায় প্রশ্ন করল – “হোয়াই ডক্টর? হোয়াই? ইচ্ছে করলেই তো হায়দরাবাদ শহরে ঝাঁ চকচকে এ সি চেম্বার, হাই ভিজিট অ্যান্ড হাই প্রোফাইল পেশেন্টস উইথ ডীপ পকেটস, অ্যাফিলিয়েশন উইথ কস্টলিইয়েস্ট নার্সিংহোমস অ্যান্ড ক্লিনিকস, ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানিগুলোর পয়সায় বছরে দুতিনবার লাক্সুরিয়াস ফরেন ট্যুর, সিকিওরড লাইফ … তা না করে অ্যাতো কষ্টের মধ্যে … এনকাউন্টার, অ্যামবুশ, জাঙ্গল ম্যালেরিয়া, কলেরা, ডায়রিয়া, হাতি, ভাল্লুক, চিতা … প্রতিমূহুর্তে প্রান হাতে করে ঝাড়খন্ড, ছত্তিসগড়ের এই ভয়ংকর বিপদ সংকুল জঙ্গলে … ক্যানোও-ও?”

অভিরূপের চূড়ান্ত অসহিষ্ণুতামাখা প্রশ্নের উত্তরে শান্ত একটা হাসি হাসলেন শশী – “তা নাহলে তো এই দেশটাকেই দেখা হতো না কমরেড। আমার ওই আপার মিডল ক্লাস সোসাইটির ক্ষুদ্র সংকীর্ণ, এই অ্যাতোটুঁকু পেরিফেরির মধ্যেই আটকে যেতাম যেখানে লোকে দু-আড়াই কোটি টাকার বিদেশী গাড়ি চড়ে। মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে বা দামি কোন রেঁস্তোরায় খেতে গিয়ে একটা দরিদ্র পরিবারের সারা মাসের রোজগারের টাকা অবহেলায় একরাতে খরচ করতে পারে। অথচ এসবের বাইরেও যে একটা বিশাল জগৎ আছে, এখানে না এলে তো সেটা জানাই হত না আমার। জানা হত না ছেলেবেলা থেকে আমার চেনাশোনা দেশটার বাইরেও একটা দেশ রয়েছে যেখানে পাঁচ-ছজনের একটা পরিবার উদয়াস্ত খেটেও গোটা একটা দিনে ত্রিশ-চল্লিশ টাকার বেশি রোজগার করতে পারে না। পেটে দাউদাউ আগুন নেভাতে মেয়ে মরদ বাচ্চা সবাই মিলে হাঁড়িয়া টেনে ঘুমিয়ে পড়ে। ডাকলেও উঠতে চায় না। কারণ জেগে উঠলেই তো আবার খিদে পাবে। আর এই দেশটাতেই আমাদের বেশিরভাগ মানুষ থাকে। এখানে না এলে বুঝতেই পারতাম না সেকথা।’

পোড়খাওয়া জার্নালিস্ট অভিরূপ, তবু প্রশ্ন করতে হোঁচট খাচ্ছিল প্রতিপদে। “বাড়িতে আপত্তি ওঠেনি?”

প্রশ্নের উত্তরে হাসলেন শশী, “অবশ্যই উঠেছিল … সাংঘাতিক। বাবা, মা, দাদারা … কেউ তো বুঝেই উঠতে পারছিল না এরকম একটা অদ্ভুত, ওদের ভাষায় সুইসাইডাল ডিসিশন আমি নিতে যাচ্ছি কেন? সামনে ব্রাইট কেরিয়ার। অঢেল টাকা কামানোর সুযোগ। সেসব ছেড়েছুড়ে … বোঝানোর চেষ্টা হয়েছিল অনেক। কিন্তু ততদিনে আমি আর নির্মলা ডিসিশন নিয়ে নিয়েছি, কারণ আমরা স্যরকে দেখে ফেলেছিলাম।

আমাদের স্যর। ডঃ বিজিত সেন। আমাদের ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়ার প্রফেসর। গোল্ড মেডালিস্ট। আমার যে সো কলড ব্রাইট কেরিয়ার নষ্ট হয়ে যাবার কথা ভেবে আমার বাবা-মা উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন, প্রফেশনাল লাইনে হাঁটলে তার চেয়ে থাউজ্যান্ড টাইমস বেটার কেরিয়ার বানাতে পারতেন স্যর। সেসব না করে চলে গেলেন ছত্তিশগড়। বস্তারের জঙ্গলঘেরা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। এখন দান্তেওয়াড়ায় একটা মেডিক্যাল ক্যাম্প চালান। ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, ম্যালনিউট্রেশন, অ্যানিমিয়া … এরকম আরও অনেক ধরনের অসুখের চিকিৎসা করেন বিনে পয়সায়। একটা পুরোনো সাইকেল চড়ে কাঁধের ঝোলায় ওষুধ আর ইঞ্জেকশন নিয়ে ঘুরে বেড়ান সেইসব প্রত্যন্ত, হতদরিদ্র গ্রামে যেখানে ওনার আগে কোনদিন কোন ডাক্তারের পা পড়েনি।

কলেজ স্টুডেন্টদের মধ্যে প্রচণ্ড পপুলার ছিলেন স্যর। ওনার ক্লাস থাকলে অন্য ক্লাস বা ফ্যাকালটি থেকেও ছাত্রছাত্রীরা এসে ভিড় জমাতো স্যরের লেকচার শুনতে। স্যর একটা কথা প্রায়ই বলতেন – “দ্যাখো, মানুষের জীবন কিন্তু একটাই, আর তোমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সেই জীবনটা তুমি কীভাবে বাঁচবে। প্রতিদিন তোমার আশেপাশে যাদের সাথে তোমার মেলামেশা, ওঠাবসা অর্থাৎ পিওর মিডল ক্লাস অ্যান্ড আপার মিডল ক্লাস পিপল … আটমোস্ট সেল্ফ সেন্টারড, সারাদিন টাকা, আরও টাকার চক্করে ঘুরছে।

ভোর থেকে রাত – ফ্ল্যাট, গাড়ি, বউ, ছেলেমেয়ে, ব্যাঙ্ক ব্যালান্স … এর বাইরে কোন চিন্তা নেই। নিজের পাশের ফ্ল্যাটেও কেউ মারা গেলে খোঁজ নিতে যাবে না অথবা রাস্তায় কেউ অ্যাকসিডেন্টে ইনজিওরড হয়ে পড়ে ছটফট করলেও গাড়িটা পাশ কাটিয়ে নিয়ে চলে যাবে। একবার ঘুরেও তাকাবে না। বাট আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি টু সে এরা সমাজের অত্যন্ত ছোট একটা অংশ, দোজ হু হ্যাভ নট আ সিঙ্গল পজিটিভ অ্যাপ্রোচ অর কনট্রিবিউশন টুওয়ার্ডস সোসাইটি। অগুনতি সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষের খুব খারাপ থাকার বিনিময়ে বেশ ভালো আছে এরা। অ্যান্ড মোস্ট আনফরচুনেটলি পিপল লাইক ইউ অ্যান্ড মি অলসো বিলঙ টু দিস ক্লাস। এবার তোমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তুমি তোমার আশেপাশের চেনা পরিচিত এই ক্ষীণ স্রোতেই গা ভাসাবে না সেই উদ্দাম, অচেনা, বিশাল খরস্রোতা জলপ্রপাতটার উৎস সন্ধানে যাবে যার থেকে শক্তি সঞ্চয় করে এই প্রায় বদ্ধ নালাটা বেঁচে আছে।” কথাগুলো বলে চুপ করে রইলেন শশী।

“তারপর?” দমচাপা অধৈর্য গলায় প্রশ্ন করলো অভিরূপ।

চলবে…

গত পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-9/

৮ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-8/

৭ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-7/

৬ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-6/

৫ম পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-5/

৪র্থ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-4/

৩য় পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-3/

২য় পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-2/

১ম পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi/

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *